ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ভ্যাজাল খাবার বর্জনে আমরা কতখানী সচেতন

ads

বাংলাদেশের খেঁটে খাওয়া দ্বীনমজুর ও স্বল্প আযের মানুষের পাশে দাড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় (ও এম এস) ডিলার এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পৌছে দিচ্ছেন চাল,ডাল,আটা,তৈল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পন্য সামগ্রী,কিন্তু (ও এম এস) ডিলারদের কাছ থেকে কতোটুকু সুবিধা পাচ্ছেন খেঁটে খাওয়া দ্বীনমজুরা। মিরপুর—১৪,ভাবাষানটেক বাজারে মোঃ আজম মিয়ার রয়েছে নামে বেনামে ১২ টি (ও এম এস) ডিলারশীপ। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে ১ নামে ৩ টন করে মোট ১২ নামে ৩৬ টন চাল ও আটা ন্যায্য মূল্যে বিক্রয়ের জন্য পেয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে সপ্তাহে তিনি মোট কতোটন মাল ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করে থাকেন। খাদ্য অধিদপ্তরের চাল ও আটার বস্তা পরিবর্তন করে ভাই ভাই রাইস এজেন্সী নামক ক্যাশ ম্যামো ব্যবহার করে ঢাকাসহ ঢাকার আশে পাশে বিভিন্ন জেলায় জেলায় বিক্রী করে থাকেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে তিনি সত্যিই তার নিজের ব্যক্তিগত গোডাউনে রাতের আধারে মানুষের সমাগম কমে গেলে পরিবর্তন করা হয় চাল ও আটার বস্তা। আর তার পর শ্রমিকদের দিয়ে নিজস্ব ও ভাড়াকৃত ট্রাক ব্যবহার করে বেশিদামে বিক্রি করে থাকেন ঢাকা ও তার আশে পাশের জেলায় জেলায়। এ বিষয় তার কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে প্রথমিক ভাবে সব অস্বিকার করেন তিনি। এবং তিনি বলেন আর্মি অফিসারদের রেশনের চাল ক্রয় করে বিক্রি করেন তিন। পরে খোজ নিয়ে জানা যায় তিনি কোন রেশনের চাল ক্রয় বিক্রয় করেন না খাদ্য অধিদপ্তরের ন্যায্য মূল্যের চাল ও আটা এভাবেই দূর্নিতী করে সরকারী বস্তা পরিবর্তন করে সাধারন মানুষদের ঠকিয়ে অধিক মুনাফায় বিক্রি করেন তিনি। আর এসব করেই নিযের ভাগ্যের  বেশ পরিবর্তন এনেছেন তিনি।         


       

প্রাচীন সভ্যতার শুরু থেকেই আমাদের সমাজে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে— মিষ্টি, রসগোল্লা,দদি,সানার তৈরী মিষ্টি ইত্যাদি ভাল মানের খাবার পরিবেশন করে অতিথীদের মন রক্ষা করা। আসলে প্রকৃতপক্ষে আমরা যে খাবারগুলি পরিবেশন করে থাকি তা কতোটুকু ভ্যাজালমুক্ত বা ভ্যাজালযুক্ত তা আসলেই ভাবনার বিষয়। মিরপুরে মিষ্টি বা রসগোল্লার জন্য বিখ্যাত একটি যায়গার নাম বড়বাজার, একটু কমদামে মিষ্টি,রসগোল্লা,দদি এবং সানা দিয়ে তৈরী রসগোল্লা কিনতে রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন যায়গা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই বড়বাজারে। এবার ফিরে যাচ্ছি ভিন্ন প্রসঙ্গে, গরুর খাঁটি দুধের সানা দিয়ে তৈরী বলে আমরা প্রতিনিয়ত যে মিষ্টি,রসগোল্লা,দদি এবং সানা দিয়ে তৈরী রসগোল্লা খাচ্ছি আসলে তার প্রধান উৎস কি??? বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা যায় বাজারের সবচেয়ে কমদামী পাউডার (অগঅ) অথবা (ও) দুধের ২ কেজির প্যাকেট এর সাড়ি সাড়ি কার্টন সাজানো থাকে প্রত্যেকটি কারখানায়। মানবদেহের জন্যে মারাত্বক ক্ষতিকারক হাজার পাওয়ারি রং,ব্রেকিং পাউডার এবং আরও অন্যান্ন মেডিসিন মিসিয়ে প্রতিদিন তৈরী করা হচ্ছে হাজার হাজার মন মিষ্টি,রসগোল্লা,দদি এবং সানা। এ ছাড়াও লক্ষ করা যায় ভোর রাতে বিভিন্ন গাড়িতে, সাতক্ষীরা সহ দেশের আরও কয়েকটি জেলা থেকে গাবতলী বাসষ্ট্যান্ট এলাকায় প্রতিদিন প্রায় একশ মন পঁচা,বাশী—গান্দা সানা আনলোড করা হয়। আর তারপর সেগুলো চলে যায় বিভিন্ন মিষ্টির কারখানাসহ এলাকার আরও কয়েকটি বাসাবাড়ীতে। গাবতলীর গেীদারটেক এবং বড় বাজারের বেশ কিছু বাসা বাড়ীতেও তৈরী হচ্ছে সানার মিষ্টি, দদি,এবং বগুড়ার দৈ নামক বিভিন্ন প্রকার ভোগ্য পন্য। বিভিন্ন কারখানায় ভ্যজাল বিরোধী অভিযান চালানো হয় বলে অষাদু ব্যবসায়ীরা নানান প্রকার চুক্তির মাধ্যমে বাসাবাড়িতেই প্রস্তুত করে থাকেন এই সকল ভ্যাজাল পন্য। অপরদিকে মিরপুরের—  ১৩ নাম্বারে বাইশটেকি এলাকায় নতুন পুরাতন সহ গড়ে উঠেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িতে বিক্রি করতে দেখা যায় খোলা চানাচুর,মনেক্কা,মুরালি সহ বিভিন্ন আইটেম এর ভোগ্য পন্য। কোথায় তৈরী করা হয় খোলা বাজারের এই সকর ভোগ্য পন্য তার সুত্র খুজতে গিয়ে দেখা যায় মিরপুরের—  ১৩ নাম্বারে বাইশটেকি এলাকায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেই তৈরী করা হচ্ছে খোলা বাজারের এই ভোগ্য পন্য। কোন প্রতিষ্ঠানেই নেই বি এস টি আই অনুমোদন,নেই ট্রেড লাইসেন্স। ময়দার খামী তৈরী করা অস্বাস্থকর নোংরা পরিবেশে। এমন দৃশ্য যা চোখে না দেখলে বিশ^াশ করা যায়না। একসাথে কয়েকজন শ্রমিককেই দেখা যায় সাড়িবদ্ধ ভাবে ময়দা, ফ্লোরে ফেলে পা দিয়ে পাড়ানো হচ্ছে। এটা দিয়ে কি তৈরী করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ৩ জনের মূখ খোলেনি কেউ। হঠাৎ করেই আগমন ঘটে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের,তার নাম জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি এবং ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন ময়দা না পাড়াইলে নাকি মুড়ালি,মনেক্কা,ফুচকা তৈরী করা যায় না। আসলেই কি না পাড়িয়ে এই সকল ভোগ্য পন্য তৈরী করা যায় না??? এমন প্রশ্ন পাঠকদের কাছে। 

ads
ads
ads

Our Facebook Page